এতদিনের অবদান হঠাৎ শূন্য হয়ে যায় না

এদিকে কয়েকদিন আগে লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যেই দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল শান্তনু সেনকে।  সেই শান্তনু এবার কুণালের হয়ে মুখ খোলা লোকসভা ভোটের মধ্যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও শান্তনুর দাবি, “দল একটা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে চলে। দলের মধ্যে কিছু বলার থাকলে দলের সুনির্দিষ্ট ফোরামে নিশ্চিত করে সেটা বলা উচিত।

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ- কুণালের অপসারণের পর থেকেই তা নিয়ে তীব্র চাপানউতোর চলছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়। খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল তো জেলে! বাতিল হয়েছেন দল থেকে? এ সব এখন তৃণমূলের বাহানা। যত বড় অপরাধী তত বড় তৃণমূল নেতা। গোটা তৃণমূল দেখলে তাই বোঝা যায়।আক্রমণ করেছে পদ্ম শিবির। বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, কেউ কেউ বলছেন মানিকতলার নির্বাচন করে কেন্দ্র করে যে অভ্যন্তরীণ রসায়ন তৈরি হয়েছিল তার ফলাফল এটা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যান্তরীণ দ্বন্দ্ব, কুণাল ঘোষের সরে যাওয়া নিয়ে আমাদের খুব একটা উৎসাহ নেই। তাই আমরা বলেছি কুণাল ঘোষকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রেস রিলিজ সামনে আনা হয়েছে তার শেষ শব্দবন্ধ যা রয়েছে তাতে কার্যত সংবাদমাধ্যমকে থ্রেট করা হয়েছে।

এদিকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণের পর মুখ খুলেছিলেন কুণালও। বলেছিলেন, ‘যাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা মহান ব্যক্তি। মহানুভব। ঈশ্বর তাঁদের মঙ্গল করুক। আমি তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মী, সাধারণ সৈনিক থেকে যাওয়ারই চেষ্টা করব।’দলে আরও কোণঠাসা কুণাল ঘোষ? পদ থেকে অপসারণের পর এবার তৃণমূলের তারকা প্রচারকের তালিকা থেকে বাদ গেল কুণাল ঘোষের নাম। পঞ্চম দফার তালিকায় ৪০ জন তারকা প্রচারকের নাম সামনে এসেছে। সেখানে নেই কুণাল ঘোষের নাম। প্রসঙ্গত, একদিন আগেই কুণালকে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তার অপসারণের পর এদিনই আবার সামনে আসে দলের স্টার ক্যাম্পেনারদের তালিকা।

যেখানে নাম রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ৪০ জন তাবড় তাবড় নেতার। রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই ফের চর্চায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। এদিকে এরইমধ্যে আবার তৃণমূলের পঞ্চম দফার যে তারকা প্রচারকদের তালিকা সামনে এসেছে সেখানে নাম নেই কুণাল ঘোষের। তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা। এদিকে এরইমধ্যে এবার কুণালের হয়ে ব্যাট ধরতে দেখা গেল প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনকে। তাঁর দাবি, একটা-দুটো মন্তব্যের জন্য কোনওভাবেই কুণালের দলের প্রতি এতদিনের অবদান অস্বীকার করা যায় না। বলেন, “নির্বাচনের সময় এমন কিছু কথা বলে আমাদের দলের প্রার্থীকে বিব্রত করে থাকেন তার জন্য দল নিশ্চিত করে পদক্ষেপ করেছে।

আমার কিছু বলার নেই। আমার পাশাপাশি কোনও একটা মানুষের এক দুদিনের মন্তব্যের জন্য তাঁর অতীতের যে দলের প্রতি যে অবদান সেটা কিন্তু হঠাৎ শূন্য হয়ে যায় না।”এখানেই না থেমে শান্তনুর আরও সংযোজন, “বিগত কয়েক বছরে দল যখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে তখন শান্তনু সেন বা কুণাল ঘোষ, আমাদের মতো হাতেগোনা কয়েকজন আগু-পিছু না ভেবে দলের হয়ে বলে গিয়েছি, দলকে ডিফেন্ড করে গেছি। বিরোধীদের চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছি।”একদিন আগে বিজেপির টিকিটে দাঁড়ানো তাপস রায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা মিলেছিল কুণালের। বলেছিলেন, ‘প্রার্থী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাপসদাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি এক ইঞ্চিও পিছনে রাখতে পারব না।’ যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক দানা বাঁধে।

এরইমধ্যে বুধবার বিকালে কুণালকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয় দল। এর আগে আবার কুণাল নিজেই দলের মুখপাত্রের পদ ছাড়েন।এদিকে কয়েকদিন আগে লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যেই দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল শান্তনু সেনকে।  সেই শান্তনু এবার কুণালের হয়ে মুখ খোলা লোকসভা ভোটের মধ্যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও শান্তনুর দাবি, “দল একটা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে চলে। দলের মধ্যে কিছু বলার থাকলে দলের সুনির্দিষ্ট ফোরামে নিশ্চিত করে সেটা বলা উচিত। সুনির্দিষ্ট ফোরামে বললে আমি আশা করব যাদের কাছে বলা হবে তাঁরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন। তাঁরাও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনওভাবেই এমন কিছু বাইরে আসা উচিত নয় যাতে দল বিব্রত হয়।” তবে তার আরও সংযোজন, “দল একটা পরিবার। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে ঠিক যেমন পরিবারের সদস্যদের উচিত পরিবারের মধ্যে আলোচনা করা, আমার পরিবারের যাঁরা দায়িত্বে সিনিয়র হিসাবে রয়েছেন তাঁরা নিশ্চিত করে তাঁদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনে একটা সমাধান করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *