ধরুন ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ বাবুর পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদযোগ্য ১ লক্ষ টাকা জমেছে। তিনি এপ্রিলে ৮ হাজার টাকা সুদ পেলেন। এতে কী হবে? এ বাবু ওই এপ্রিল মাস থেকে ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকার উপর তার সুদ পেতে শুরু করবেন। সেখানে তিনি যদি নভেম্বরে গিয়ে সুদের টাকা পান, তা হলে কি তাঁর আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না? প্রশ্ন তাঁর। দেশের প্রাক্তন এক অর্থসচিবও টুইটে এনিয়ে ইপিএফও-কে প্রশ্ন করেছেন।
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক :– ইপিএফের টাকা সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা। সরকার এখানে এক টাকাও দেয় না। তাই এই টাকায় সময়ে সুদ পাওয়া যে কোনও গ্রাহকেরই অধিকার। যত দ্রুত সম্ভব তা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রকে। চলতি আর্থিক বছরে ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ পাবেন এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের গ্রাহকরা। গত ফেব্রুয়ারিতে এই সুদের হার ঘোষণা করে ইপিএফও। ইপিএফের সুদ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে কবে? প্রশ্নটা উঠছে, কারণ গত কয়েক বছর ধরে একেবারে নিয়ম করে সুদ জমা পড়ার দিন পিছিয়েই যাচ্ছে। শেষ তিন বছরের কথাই ধরুন। ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২- ২৩ অর্থবর্ষে ইপিএফের সুদ জমা পড়েছে দীপাবলির পর। মানে সেই অক্টোবর পার করে। অথচ এপ্রিল- মে মাসেই ইপিএফের সুদ জমা পড়ার কথা।
ইপিএফও-র তথ্যও বলছে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোটামুটি নির্দিষ্ট সময়েই সুদ জমা পড়েছে। এরপর থেকেই সেটা পিছোতে পিছোতে এখন অক্টোবর – নভেম্বরে সুদ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। স্ট্রেট কাটের এক দর্শক আমাকে প্রশ্ন করেছেন, এই যে নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ৬ মাস পর সুদ জমা পড়ছে, এতে কি গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না? ধরুন ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ বাবুর পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদযোগ্য ১ লক্ষ টাকা জমেছে। তিনি এপ্রিলে ৮ হাজার টাকা সুদ পেলেন।
এতে কী হবে? এ বাবু ওই এপ্রিল মাস থেকে ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকার উপর তার সুদ পেতে শুরু করবেন। সেখানে তিনি যদি নভেম্বরে গিয়ে সুদের টাকা পান, তা হলে কি তাঁর আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না? প্রশ্ন তাঁর। দেশের প্রাক্তন এক অর্থসচিবও টুইটে এনিয়ে ইপিএফও-কে প্রশ্ন করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, প্রতিবার সুদ জমা পড়তে এত দেরি হলে গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতি তো হচ্ছেই, সঙ্গে ইপিএফের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ ব্যাপারে ইপিএফের উচিত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। তাঁদের জানানো উচিত, কেন প্রতি বছর সুদ জমা পড়তে এত দেরি হচ্ছে। জবাবে ইপিএফও জানায়, চলতি আর্থিক বছরে সুদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এটি বেশ দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও তাই এক্ষেত্রে অনেকটা সময় লাগে। অদ্ভুত কথা। অর্থমন্ত্রকের অনুমোদন আসার পরই তো সুদের হার ঘোষণা হয়, তা হলে আবার নতুন কী প্রক্রিয়া? ইপিএফও-র এক আধিকারিক আমাকে বললেন, নতুন অর্থবর্ষে সুদ দেওয়ার আগে সরকারিভাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। সেটা পাঠায় কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। অর্থমন্ত্রক তাতে অনুমোদন দিলে, তবেই সুদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেরিতে সুদ জমা পড়ার পিছনে এগুলো কি কোনও যুক্তি হতে পারে? আমার তো মনে হয়, এসব কোনও যুক্তিই নয়। কেননা, যখন সময়ে সুদ জমা পড়ত, তখনও তো এই এক পদ্ধতি মেনেই হত।
তা হলে এখন দেরি হচ্ছে কেন? আরও খোঁজখবর নিতে গিয়ে বুঝলাম, কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক থেকে প্রয়োজনীয় নথি অর্থমন্ত্রকে পাঠাতে যথেষ্টই দেরি হচ্ছে। গত তিন- চার বছর ধরে এই সমস্যা। ফল পুরো প্রক্রিয়াটাই পিছিয়ে যাচ্ছে। ইপিএফও-র এক শীর্ষকর্তা আমাকে বললেন, এই সুদ জমার বিষয়টা নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি আছে। ইপিএফের সুদ মাসিক ভিত্তিতে হিসাব করা হয় ও আর্থিক বছরের শেষে একসঙ্গে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। তাই সুদ পেতে দেরি হলেও গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তাঁর আশ্বাস, যদি কোনও গ্রাহক ইপিএফের পুরো টাকা তুলেও নেন, তা হলেও তাঁকে শেষদিন পর্যন্ত হিসাব করে সুদ সহ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়। দেখুন, ইপিএফের এই দাবি কতটা ঠিক – কতটা ভুল – তা সবসময় বুঝে ওঠা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তাই কয়েক কোটি ইপিএফ গ্রাহকের হয়ে আমাদের দাবি, ইপিএফে সুদ দিতে দেরির কারণ খতিয়ে দেখা হোক। এবং খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
