‘গ্রেফতার হলেও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন অরবিন্দ কেজরীবাল, এ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।’ জেল থেকেই কেজরীবাল সরকার চালাবেন, সেকথাও জানিয়েছেন তিনি। অতিশি বলেন, কোনও আইন নেই যা কেজবীবালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে আটকাতে পারে। কারণ, তিনি দোষী প্রমাণিত নন। কেজরীবালের এই গ্রেফতারির ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই ব্যাখ্যা করছে আম আদমি পার্টি।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ গ্রেফতার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের মুখে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে। আম আদমি পার্টির নেত্রী অতিসি মারলেনা জানিয়েছেন, ‘গ্রেফতার হলেও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন অরবিন্দ কেজরীবাল, এ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।’ জেল থেকেই কেজরীবাল সরকার চালাবেন, সেকথাও জানিয়েছেন তিনি। অতিশি বলেন, কোনও আইন নেই যা কেজবীবালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে আটকাতে পারে। কারণ, তিনি দোষী প্রমাণিত নন। কেজরীবালের এই গ্রেফতারির ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই ব্যাখ্যা করছে আম আদমি পার্টি।ইন্ডিয়া জোটে আম আদমি পার্টির বন্ধু শিবির কংগ্রেসও ইতিমধ্য়েই এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এই গ্রেফতারিকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে ব্যাখ্যা করেছেন।’ এক্স হ্যান্ডেলে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী লিখেছেন, ‘ভোটের জন্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালকে টার্গেট করা হচ্ছে। এটা অসাংবিধানিক এবং কোনওভাবেই কাঙ্খিত নয়। রাজনীতিকে এই পর্যায়ে নামিয়ে আনা কেন্দ্রের পক্ষে শোভা পায় না।’উল্লেখ্য, এদিন সন্ধেতেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছিল ইডির তদন্তকারী অফিসারদের দল। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে যে পুলিশি ব্যবস্থাপনা ছিল, তা থেকেই অনেকটা আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছিল, বড় কিছু ঘটতে চলেছে। অবশেষে প্রায় ২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হল কেজরীকে।
বার বার ইডির সমন এড়ানো কেজরীবালের গ্রেফতারি নিয়ে যখন বিরোধীরা বার বার রাজনৈতিক চক্রান্তের তত্ত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তখন চুপ নেই বিজেপিও। বিজেপি নেতা গৌরব ভাটিয়া এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘গোটা দিল্লির সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত অসৎ কেজরীবালের গ্রেফতারিকে স্বাগত জানিয়েছেন। গ্রেফতারি থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে কেজরীবালই আবগারি কেলেঙ্কারির মূল হোতা।’লোকসভা ভোটের মুখে গ্রেফতার কেজরীবাল। বৃহস্পতিবার রাতেই আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে হানা দেয় ইডি। তারপর থেকেই তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছিল। গ্রেফতারির আশঙ্কা করেছিলেন আপ নেতারা। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালকে। তা নিয়েই তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনাতে।
বাংলার বিরোধী শিবিরের নেতারা বলছেন সবটাই যড়যন্ত্র। গ্রেফতারির পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। প্রসঙ্গত, এর আগে ৯ বার ইডির সমন এড়িয়েছেন কেজরীবাল। এবার লোকসভা ভোটের আগে তাঁর গ্রেফতারিতেই শুরু জোরদার শোরগোল।বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বলেন, “কেজরীবালের বিরুদ্ধে অনেক দিন থেকে ষড়যন্ত্র করছে। বারবার ডেকে পাঠাচ্ছে নির্বাচনের আগে। ওকে গ্রেফতার করে বিরোধী দলগুলির জোটকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তৃণমূল ভয়ে ইন্ডিয়া জোটে থাকল না।
” প্রসঙ্গত, এদিনই সামনে এসেছে বাংলায় কংগ্রেসের ৮ আসনের প্রার্থী তালিকা। তাতেই দেখা যাচ্ছে পুরনো গড় বহরমপুুর থেকে লড়ছেন অধীর।কেজরীবালের গ্রেফতারিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বামেরাও। বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, এই “পরিকল্পনা অনেকদিন থেকেই তো চলছিল। এটা সবাই জানে। চান্স পেলেই যে গ্রেফতার করবে কারণ বিজেপি বুঝতে পারছিল আপ তার পক্ষে যাচ্ছে না। সুবিধা হচ্ছে না। যাকে দিয়ে সুবিধা হবে না তাঁকে কোণঠাসা করো, হেনস্থা করো, গ্রেফতার করো। এটাই তো করছে। অন্যদিকে বিজেপিকে যে সাহায্য করবে তার জন্য সাত খুন মাফ।” বিজেপির পাশাপাশি অধীরের মতো তিনিও তোপ দেগেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের মুখে বিরোধী শিবিরের নেতারা তৈরি করেছেন ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি রয়েছে অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টিও।
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
