একটা সময়ে দিলীপ তাঁর মুখের জন্য খ্যাত (সমালোচদের কথায় ‘কুখ্যাত’) হয়ে উঠেছিলেন। বিরোধীদের ‘বুকে পা তুলে দেব’ হুঁশিয়ারি তো রাজ্য রাজনীতিতে দিলীপেরই ‘পেটেন্ট’। তবে সে সবের জন্য তাঁর আক্ষেপ নেই। দাবি করেন, ‘‘দেবতারাও দুষ্টের দমনে বুকে পা তুলেছেন, মহিলা হয়েও ছাড় পাননি পুতনা।’’
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ তিনি কি আর মুখ খুলবেন না? লোকসভা নির্বাচনের সময়েও নয়? দিলীপ বলেন, ‘‘যখন প্রয়োজন হয়, তখন গ্যালারির দিকে তাকাতে হয়। নির্বাচন আসছে। সবাইকে নামতে বলা হয়েছে। আমিও করব। আমি সাংসদ হিসাবে যেটা কাজ, সেটা করছি। দলের উপর থেকে নিজের নিজের এলাকায় সংগঠন দেখতে বলা হয়েছে। আমি সেই কাজে লেগে আছি।’’ নিজেকে আপাতত ‘গ্যালারির দর্শক’ মনে করা দিলীপ অনেক দিন ধরেই রাজ্যের কাজে মন না দিয়ে নিজের লোকসভা আসনকেই ‘পাখির চোখ’ করেছেন। এমনকি, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চারটি জনসভায় মঞ্চের ধারেকাছেও দেখা যায়নি প্রাক্তন তথা বিজেপির সফলতম রাজ্য সভাপতিকে। বারাসতে গেলেও ছিলেন দর্শকের আসনে। কেন? দিলীপের জবাব, ‘‘কোনও দিনই আমি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলতে ভালবাসি না। কোনও দিন কেউ দেখাতে পারবে না। এক বার শুধু আন্দামানে থাকার সময়ে লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে একটা গ্রুপ ছবিতে ছিলাম। বাকি মঞ্চে থাকলে যে সব ছবি ওঠে সেগুলোই।’’
তিনি ‘চুপচাপ’ যে রয়েছেন এবং তা নিয়ে যে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা হয়, তা মেনে নিয়ে দিলীপ বলেন, ‘‘এটা ঠিকই। অনেকেই অনুভব করেন সেটা। সবাই বলে, দিলীপ বেশি কথা বলে। কিন্তু দিলীপ যে কথা না বলেও থাকতে পারে, সেটাও তো বোঝানো দরকার!’’ এমনই থাকবেন না বদলাবেন? সে প্রশ্নের উত্তর নিজে থেকেই দিয়েছেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘‘বলব। যখন প্রয়োজন হবে বলব। আমাদের সর্বভারতীয় নেতারা আসছেন। এখানকার নেতারাও রয়েছেন। তাঁরা বলছেন। আমিও জনসভায় দরকার মতো বলব। ভোট এলে মিটিং, মিছিল শুরু হলে অবশ্যই বলব।’’একটা সময়ে দিলীপ তাঁর মুখের জন্য খ্যাত (সমালোচদের কথায় ‘কুখ্যাত’) হয়ে উঠেছিলেন। বিরোধীদের ‘বুকে পা তুলে দেব’ হুঁশিয়ারি তো রাজ্য রাজনীতিতে দিলীপেরই ‘পেটেন্ট’। তবে সে সবের জন্য তাঁর আক্ষেপ নেই। দাবি করেন, ‘‘দেবতারাও দুষ্টের দমনে বুকে পা তুলেছেন, মহিলা হয়েও ছাড় পাননি পুতনা।’’ তাঁর এমন গরম বক্তৃতা শুনতে ভিড়ও হত। রাজ্য বিজেপিতে অনেকে বলেন, দিলীপের ‘ভোকাল টনিকের’ জোরেই বিজেপির সাংসদ সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১৮ হয়েছিল। বিধায়ক সংখ্যাও দুই থেকে ৭৭। দিলীপের বক্তব্য, ‘‘আমি তো সাংগঠনিক কাজ করতাম। ভাষণ না দিয়ে পর্দার পিছন থেকে কাজ করতাম। যখন ধাক্কা মেরে পর্দার পিছন থেকে মঞ্চে নিয়ে আসা হল, তখন তো বলতেই হবে। মানুষ হাততালি দেওয়ার জন্য বসে আছেন দেখে বলা শুরু করলাম।’’
সেই লড়াই কম ছিল না দিলীপের কাছে। আরএসএস প্রচারক হিসাবে ৩২ বছর কাটানোর পরে রাজনীতিতে এসে ‘স্বশিক্ষিত’ হয়েছেন তিনি। সেই পর্ব নিয়ে দিলীপ বলেন, ‘‘কর্মীদের সামনে সংগঠন নিয়ে বলতাম। হাততালি ছিল না। প্রেরণা দেওয়ার জন্য বলতাম। পরে কর্মীদের গরম করার জন্য যে বক্তৃতা, সেটা আমায় ধীরে ধীরে শিখতে হয়েছে।’’ অনেকে বক্তৃতা দিয়েই নেতা হয়েছেন বলেও কটাক্ষ করেন দিলীপ। বলেন, ‘‘জীবনে আর কিছু না করে শুধু ভাষণ দিয়েই বড় নেতা হয়ে গিয়েছেন এমন অনেকে আছেন।’’’’একটা সময়ে দিলীপ তাঁর মুখের জন্য খ্যাত (সমালোচদের কথায় ‘কুখ্যাত’) হয়ে উঠেছিলেন। বিরোধীদের ‘বুকে পা তুলে দেব’ হুঁশিয়ারি তো রাজ্য রাজনীতিতে দিলীপেরই ‘পেটেন্ট’। তবে সে সবের জন্য তাঁর আক্ষেপ নেই। দাবি করেন, ‘‘দেবতারাও দুষ্টের দমনে বুকে পা তুলেছেন, মহিলা হয়েও ছাড় পাননি পুতনা।’’ তাঁর এমন গরম বক্তৃতা শুনতে ভিড়ও হত। রাজ্য বিজেপিতে অনেকে বলেন, দিলীপের ‘ভোকাল টনিকের’ জোরেই বিজেপির সাংসদ সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১৮ হয়েছিল।
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
