ডায়াবেটিস রোগীদের মোমো খেলে আরও শর্করা মাত্রা বাড়ে? সামারিটান মেডিকাল সার্জিকাল অ্যান্ড ক্রিটিকাল কেয়ারের প্রধান পুষ্টিবিদ অরিত্র খাঁ জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস থাকলে মোমো খাওয়া ক্ষতিকর এর মধ্যে কিছুটা সত্যি কিছুটা মিথ রয়েছে। যেহেতু এটি মূলত ময়দা (Refined Flour) দিয়ে তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে ডায়েটরি ফাইবার থাকে না। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্টও থাকছে না। তাই রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ নেপালের জন-আন্দোলনের পর পরই ৯০ দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেওয়ার সম্প্রদায়ের কাছে এটি অন্যতম জনপ্রিয় প্রধান খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হত। তিব্বতি ও শরণার্থীদের মাধ্যমে এই খাবারটি ভারতে আসে বলে মনে করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ দেশে এই খাবারটি পাওয়া যায়।কতটা উপকারী এই খাবার? পুষ্টিবিদরা জানান যে, বাড়িতে মোমো বানিয়ে খেলে তার পুষ্টিগুণ বেশিই থাকে। এছাড়া তাজা মাংস, টাটকা সবজি ব্যবহার করলে তা শরীরের জন্য উপকার। স্টিম মোমো খেলে উপকার বেশি থাকে প্যান ফ্রায়েড বা ফ্রায়েডে পুষ্টিগুণ থাকে না বললেই চলে।ডায়াবেটিস রোগীদের মোমো খেলে আরও শর্করা মাত্রা বাড়ে? সামারিটান মেডিকাল সার্জিকাল অ্যান্ড ক্রিটিকাল কেয়ারের প্রধান পুষ্টিবিদ অরিত্র খাঁ জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস থাকলে মোমো খাওয়া ক্ষতিকর এর মধ্যে কিছুটা সত্যি কিছুটা মিথ রয়েছে।
যেহেতু এটি মূলত ময়দা (Refined Flour) দিয়ে তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে ডায়েটরি ফাইবার থাকে না। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্টও থাকছে না। তাই রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই।মোমো খাওয়ার লাভ-ক্ষতি ।পুষ্টিবিদ অরিত্র খাঁ-এর কথায়, ‘যেকোনও খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেস্ক (GI) খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে খাবার থেকে শর্করা রক্তে কতটা মিশছে তা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত, মোমোর ক্ষেত্রে যে ময়দা ব্যবহার করা হয় তা benzoyl peroxide দিয়ে ব্লিচ করা থাকে। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে অগ্নাশয় থেকে islets of langerhans- এর β Cell থেকে ক্ষরিত ইনসুলিনের মাত্রা প্রভাবিত হয়। যার প্রভাব পড়ে রক্তে শর্করার মাত্রায়। স্টিমড মোমো যদি আটা, রাগি, মিলেট দিয়ে তৈরি হয় সেক্ষেত্রে সমস্যা কম হতে পারে। আবার মোমোর মধ্যে কী উপাদান ব্যবহার করছি সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবজি, চিকেন থাকলে তা সহজপাচ্য এবং প্রভাব কম থাকে, ক্যালোরিও কম থাকে। তবে মাটন, পর্ক স্টাফড মোমো হলে তা উপকার কম, ক্ষতির সম্ভাবনা রেখে যায়।পাশাপাশি, ফ্রায়েড মোমো খেলে উপকার বেশি নেই। ভাজা মোমোর ক্ষেত্রে Free Radical তৈরি হয়। যা থেকে রিঅ্যাক্টিভ অক্সিজেন তৈরি হয়। ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়, কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। হার্ট এবং কিডনিরও একাধিক রোগ হতে পারে। মোমোর সঙ্গে এর চাটনির দিকেও নজর রাখতে বলেছেন পুষ্টিবিদ।
সস বা চাটনি যা মোমোর সঙ্গে সার্ভ করা হয়, সেখানে যা উপাদান ব্যবহার করা হয় তা ঠিকঠাক না হলে শরীরের জন্য সবসময় উপকারী হয় না।অন্যদিকে, কলকাতার সিনিয়র কনসালট্যান্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ তীর্থঙ্কর চৌধুরী জানান, মোমো খাওয়া ভাল না খারাপ তা নির্ভর করে জিএল এবং জিআই এর ওপর। কতটা খাচ্ছি, কখন খাচ্ছি, কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কী পরামর্শ থাকছে?কোনও রোগী ডায়াবেটিক হলে খাদ্য তালিকায় অনেক কিছুই বাদ থাকে। অনেকসময় মোমোকে ‘হেলদি’ খাবার ভেবে খেয়ে নেন অনেকেই। চিকিৎসক-পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিক থাকলে মোমো খাওয়া যাবে না, কিংবা মোমো খেলে ডায়াবেটিস বাড়বে, এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। অন্যান্য খাবারের মতই মোমোর উপাদান এবং তা সপ্তাহে কিংবা প্রতি মাসে কত পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে অনেকটাই। স্টিম মোমো বনাম ফ্রায়েড মোমো, স্বাস্থ্যকর মোমো খেতে চান, তাহলে সেটা বাড়িতেই তৈরি করা শ্রেয়। মোমোর বিভিন্ন প্রকারভেদ থাকলেও , স্বাস্থ্যকর দিক থেকে একমাত্র স্টিম মোমো ভালো।

ফ্রায়েড মোমো দেখতে ভাল এবং খেতে সুস্বাদু হলেও তার মধ্যে স্বাস্থ্যগুণ খুব বেশি নেই। কারন এর ভেতরের পুর গুলি চিকেনের হলেও, বাইরে যে সস বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে এটাকে তৈরি করা হয়, সেটা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।তাছাড়াও সেদ্ধ করার পরে মোমো গুলো প্যানের উপরে বিভিন্ন রকম মসলার সঙ্গে আরও একবার ফ্রাই করা হয়, যেই কারণে এর নাম প্যান ফ্রায়েড মোমো। বিভিন্ন উপকরণের সাথে ফ্রাই করার কারণে এর পুষ্টিকরণ সবটাই নষ্ট হয়ে যায়।

তবে তাতে কী পুর ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই বিষয়টিও খেয়াল রাখা দরকার। স্টিম মোমোর মধ্যে চিকেনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি থাকে। তা পুষ্টির দিক থেকে উপকারী। ফ্রায়েড মোমো দেখতে ভাল এবং খেতে সুস্বাদু হলেও তার মধ্যে স্বাস্থ্যগুণ খুব বেশি নেই। কারণ এর ভেতরের পুরগুলি চিকেনের হলেও, বাইরে যে সস বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে এটাকে তৈরি করা হয়, সেটা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক বলেই ধরা হয়। বিভিন্ন উপকরণের সঙ্গে ফ্রাই করার কারণে এর পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়ে যায়। পরিসংখ্যান বলেছে মোগলাই, ভারতে চাউমিনের থেকেও মোমোর চাহিদা বেশি। ফলে এই ব্যবসা থেকে লাভের মুখ দেখতে চান অনেকেই। এর ফলে স্বল্প বিনিয়োগে বেশি লাভ তুলতে গিয়ে ক্ষতির অভিযোগই ওঠে বেশি। কারণ বাইরের মোমোতে মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট অর্থাৎ এমএসজি থাকে। যার পরিমাণ সামান্য হেরফের হলে বিপদের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে শরীরে। যার থেকে অজান্তেই বড়সড় রোগ বাধতে পারে। তবে জনপ্রিয়তায় প্রতিটি পদই একে অপরকে টেক্কা দেয়। যদিও এক এক দেশে এর নামের তফাত রয়েছে। চিনে একে বলে বাওজি বা জিয়াওজি, জাপানে গিয়োজা। তিব্বতি ভাষায় Mo শব্দের অর্থ বাষ্প (Steam)। স্থানীয় ভাষায় মোমো শব্দের অর্থ জানা যায়, ‘মাংসে ভরা ভাপা ময়দার পুডিং’ বিশেষ। তাই গুনা গুন বিচার করে মাঝে মদ্ধে এক্তু আধটু মোমো খাওয়া জেতেই পারে।
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
