ভারতের প্রধান রাম মন্দির, যা রামের জন্মভূমি অযোধ্যাতেই অবস্থিত, সেটার উপরের অংশ ভেঙ্গে ফেলে এবং মন্দিরের মূলভিত্তির উপরেই মসজিদ তৈরি করে, যেটা বাবরি মসজিদ নামে পরিচিত। এই মসজিদ তৈরি করার সময় যেসব হিন্দুদেরকে বন্দি রাখা হয়েছিল, তাদের গলা কেটে প্রথমে একটি পাত্রে সেই রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং তারপর জলের পরিবর্তে চুন-সুড়কির সাথে সেই রক্ত মিশিয়ে মন্দিরের মূল ভিতের উপরই ইটের উপর ইট গেঁথে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তাই ইসলামী প্রথাসম্মত মসজিদ এটা নয়। ইসলামের বিজয় অভিযানে হিন্দুদের মনোবল ভাঙতে যত্রতত্র অসংখ্য মন্দির ভেঙ্গে যেমন বিজয় স্মারক নির্মিত হয়েছিল,
বরেন মিত্র, নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট ২০২০ সালের মার্চ মাসে রাম মন্দির নির্মাণের প্রথম ধাপ শুরু করেছিল।[৩১][৩২] যাইহোক, ভারতে কোভিড-১৯ মহামারীজনিত অবরুদ্ধকরণ এবং ২০২০ সালের চীন-ভারত সংঘর্ষের কারণে নির্মাণ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল।[৩৩][৩৪] নির্মাণস্থলের মাটি সমতলকরণ ও খননকালে একটি শিবলিঙ্গ, স্তম্ভ ও ভাঙা মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল।[৩৫] মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ রামের মূর্তিটি একটি অস্থায়ী স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।[৩৬] এটির নির্মাণের প্রস্তুতির জন্য, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ একটি বিজয় মহামন্ত্র জপ অনুষ্টান আয়োজন করেছিল, যেখানে ব্যক্তিরা বিজয় মহামন্ত্র – শ্রী রাম, জয় রাম, জয় জয় রাম, জপ করতে ২০২০ সালের ৬ই এপ্রিল বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়েছিল। এটি মন্দির নির্মাণে “প্রতিবন্ধকতার উপর বিজয়” নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছিল।[৩৭]প্রকল্পের ঠিকাদার লারসেন অ্যান্ড টুব্রো বিনা খরচে মন্দিরের নকশা ও নির্মাণ তদারকি করার প্রস্তাব দেয়।[৩৮][৩৯] সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল জিওফিজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (যেমন বোম্বে, গুয়াহাটি ও মাদ্রাজ) মাটি পরীক্ষা, কংক্রিট ও নকশার মতো ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিল।[৪০][৪১][৪২] প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) মন্দিরের নীচে প্রবাহিত সরয়ুর একটি স্রোত সনাক্ত করেছিল।[৪৩][৪২] টাটা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্সকে একটি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।[৪৪] ফিরে দেখা জাক ইতিহাস।ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলছেন কেউ, কেউ আবার বলছে নতুন ভারতের সূচনা, অযোধ্যায় নবনির্মিত রামমন্দিরের উদ্বোধন যত এগিয়ে আসছে, তার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে আবেগ, উপমা এবং উন্মাদনাও। মন্দিরের গর্ভগৃহে ভগবান রামের শিশুকালের মূর্তি, ‘রামলালা’র প্রাণপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে অযোধ্যারও পুনর্জন্ম ঘটতে চলেছে বলে দাবি করছেন ভক্তজনেরা (Ayodhya Ram Mandir Timeline)।

লালচে গোলাপি বেলেপাথর দিয়ে তৈরি মন্দিরের কাজ যদিও পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনও, জমকালো আয়োজনে ঢাকা পড়ে গিয়েছে সেই অসম্পূর্ণতা। শিশুবয়সি রামচন্দ্ররূপে যে ৫১ ইঞ্চি মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা ঘিরে এত আয়োজন, তার জৌলুসে চাপা পড়ে ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি বদলে দেওয়া, সাড়ে সাত দশক পুরনো ন’ইঞ্চির মূর্তিটি। ইতিহাসের এই সন্ধি ক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঝালিয়ে নেওয়া যাক রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদের দীর্ঘ এবং বিতর্কিত ইতিহাস। (Ayodhya Ram Mandir)১৫২৮: বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) নির্মাণকার্য কবে শুরু হয়েছিল, সেই নিয়ে নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণের রেকর্ড নেই। বাবরি মসজিদের গায়ে খোদাই করা তথ্য থেকে জানা যায়, সেটি ১৫২৮ থেকে ১৫২৯ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। মুঘল সম্রাট বাবরের ইচ্ছে অনুযায়ী বাবরি মসজিদের নির্মাণ করান তাঁর কমান্ডার মীর বাকি। ‘বাবরনামা’য় মসজিদের উল্লেখও মেলে না, মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ নির্মাণের কথাও লেখা নেই তাতে। তুলসিদাসের ‘চরিতমানস’ বা আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরি’তেও তেমন কিছুর উল্লেখ নেই। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে ভারতে আসেন ব্রিটিশ উইলিয়াম ফিঞ্চ। রানিচাঁর তথা রামচাঁদ প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষের উল্লেখ পাওয়া যায় তাঁর লেখায়, তবে তার উপর মসজিদ নির্মাণের উল্লেখ ছিল না। অযোধ্যার যে অংশকে রামজন্মভূমি বলে মনে করেন হিন্দুরা, সেখানে মসজিদের প্রথম উল্লেখ মেলে সাওয়াই রাজা দ্বিতীয় জয় সিংহের রেখে যাওয়া নথিতে।১৮৫৩: রামজন্মভূমি এবং বাবরি মসজিদ বিতর্ক ১৮৫৩ সালে প্রথম হিংসাত্মক আকার ধারণ করে বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। অওধের নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের আমলে নির্মোহী বৈষ্ণবদের প্রতিপত্তি বাড়ে। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থাব, গুজরাত এবং বিহারে মন্দির, মঠের সম্পত্তি এঁদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। মন্দির ভেঙে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছে বলে সরব হন তাঁদের একাংশ।
সেই নিয়ে হিংসা ছড়ায়।১৮৫৯: পর পর হিংসা-অশান্তির জেরে ১৮৫৯ সালে তৎকালীন ইংরেজ সরকার বাবরি মসজিদ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া তোলে, যার একদিক দিয়ে মসজিদের ভিতরের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারতেন মুসলিমরা। উঠোনের বাইরের অংশে হিন্দুদের প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়।১৮৮৫: রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কে প্রথম মামলায় দায়ের হয় ১৮৮৫ সালের জানুয়ারি মাসে। আদালতের দ্বারস্থ হন মহন্ত রঘুবীর দাস। মসজিদের বাইরে বেদি নির্মাণ করতে চেয়ে জেলা ফৈজাবাদ জেলা আদালতে আবেদন জানান তিনি, আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।১৯৪৯: লিবারহান কমিশনের রিপোর্ট অনুয়ায়ী, ১৯৪৯ সালের ২২ ডিসেম্বর, রাতের অন্ধকারে মসজিদের ভিতর ‘রামলালা’র মূর্তি রেখে দেন অভিরাম দাস, যিনি অভয়রাম দাস নামেও পরিচিত। নির্মোহী আখড়ার সাধু ছিলেন তিনি। সেই সময় অভিরামের নামে এফআইআর-ও দায়ের হয়। বেশ কয়েক জন মিলে সেই রাতে মসজিদের ভিতরে ভগবান রামের শিশুকালের ওই মূর্তিটি রেখে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। হিন্দু সংগঠন এবং মুসলিম পক্ষ, দুই তরফেই মামলা দায়ের হয়, তাতে বাবরি মসজিদ এবং তার সংলগ্ন জায়গাকে বিতর্কিত ঘোষণা করে, প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেয় তৎকালীন ইংরেজ সরকার।
১৯৩৪: ২৭ মার্চ অযোধ্যায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধে। দাঙ্গা চলাকালীন মসজিদকে ঘিরে থাকা দেওয়াল এবং একটি গম্বুজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৎকালীন ইংরেজ সরকার সেটি মেরামত করে দেয় পরে।১৯৫০: গোপাল সিংহ বিশারদ এবং মহন্ত পরমহংস রামচন্দ্র দাস ফৈজাবাদ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। ‘রামের জন্মস্থানে’ রাখা মূর্তির পুজো করতে চেয়ে আবেদন জানান। মসজিদের ভিতরের আঙিনা বন্ধ রেখে, বাইরের অংশে তাঁদের পুজো-আচ্চার অনুমোদন দেয় আদালত।১৯৫৯: ফের আদালতে মামলা করে নির্মোহী আখড়া। গোটা বাবরি মসজিদ এবং তার সংলগ্ন ওই বিতর্কিত জায়গাকে তারা রাম জন্মভূমি বলে দাবি করে। সমগ্র জায়গার উপর দখল চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে তারা।১৯৬১: রাতের অন্ধকারে মসজিদে ঢুকে ‘রামলালা’র মূর্তি রেখে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের দ্বারস্থ হয় সুন্নি সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ওয়াকফ। বাবরি মসজিদ এবং সংলগ্ন জায়গা আসলে কবরস্থান ছিল বলে দাবি করে তারা।১৯৮৪: হিন্দু সংগঠনগুলি মিলে একটি কমিটি গঠন করে। রাম জন্মভূমিতে ভগবান রামচন্দ্রের মন্দির নির্মাণের প্রতিজ্ঞা নেয় ওই কমিটি। যত দিন এগোয় ততই মন্দির নির্মাণের দাবি জোর পায়। সূচনা ঘটে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের, যাতে লালকৃষ্ণ আডবানি-সহ বাকিরা যোগ দেন এবং নেতৃত্বদান করেন।১৯৮৬: হরি শঙ্কর দুবের মামলার ভিত্তিতে হিন্দুদের জন্য মসজিদের দ্বার খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় জেলা আদালত। আদালতের নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন মুসলিমরা। মীমাংসার জন্য গঠিত হয় বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি।
ওই বছরই বহুচর্চিত শাহো বানো মামলার নিরিখে সংসদে মুসলিম মহিলা আইন ১৯৮৬ পাস হয়, যার আওতায় মুসলিম মহিলাদের বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার প্রদান করা হয়।১৯৮৯: বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে বাবরি মসজিদ সংলগ্ন জমিতে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বিচারপতি দেবকী নন্দন আগরওয়াল, যিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতিও, তিনি মসজিদ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে মামলা করেন। ফৈজাবাদ আদালতে জমা পড়া সেই সংক্রান্ত চারটি মামলা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে স্থানান্তরিত করা হয়। এর পর তৎকালীন রাজীব গাঁধী সরকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে বিতর্কিত ওই জমিতে রামমন্দিরের শিলান্যাসের অনুমতি প্রদান করে।১৯৯০: আবারও অশান্তি বাধলে মসজিদের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনি। এর পরই রামমন্দির নির্মাণে সমর্থন জোগাড় করতে বিজেপি-র তৎকালীন সভাপতি লালকৃষ্ণ আডবানি সোমনাথ থেকে অযোধ্যা রথযাত্রার সূচনা করেন। বিহারের সমস্তিপুরে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্যের তৎকালীন লালুপ্রসাদ যাদব সরকার।
গ্রেফতার হন বিশ্ব হিন্দু পরিষদর নেতা অশোক সিঙ্ঘলও। অযোধ্যা যাওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে করসেবকদের, যাতে ২০ জন মারা যান, দাঙ্গা শুরু হয়ে যায় গোটা রাজ্যে।১৯৯১: ভিপি সিংহ সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি। লোকসভায় ১২১টি আসন-সহ দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয় গেরুয়া শিবির। এর পর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয় বিজেপি। রাম জন্মভূমি অন্দোলনকেই বিজেপি-র জয়ের কৃতিত্ব দেওয়া হয় সেই সময়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন কল্যাণ সিংহ। আরও গতি পায় রাম জন্মভূমি আন্দোলন।১৯৯২: ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদে লালকৃষ্ণ আডবানি, মুরলি মনোহর জোশী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং শিবসেনা নেতৃত্বের বক্তৃতা শুনতে জড় হন ১.৫ লক্ষ মানুষ। ওই সভার আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, মসজিদের গায়ে আঁচড় পড়া চলবে না। রাজ্য সরকারের তরফে সেই মর্মে আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু সভা চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাবরি মসজিদের উপর চড়াও হন করসেবকরা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে ফেলা হয় বাবরি মসজিদ। এর পর উত্তরপ্রদেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধলে ২০০০ মানুষের মৃত্যু হয়। পিভি নরসিংহ রাওয়ের কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তের জন্য বিচারপিত এমএস লিবারহানকে মাথায় বসিয়ে কমিশন গঠন করে।১৯৯৩: অযোধ্যার কিছু জায়গা অধিগ্রহণ আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার বাবরি মসজিদ এবং সংলগ্ন ৬৭.৭০৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে, যার বিরুদ্ধে একাধিক জনস্বার্থ মামলা জমা পড়ে। অপরাধ মামলার তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CBI). বাবরি মসজিদ ধ্বংসে উস্কানি জোগানোয় চার্জশিটে নাম ওঠে লালকৃষ্ণ আডবানি এবং আরও ১৯ জনের।১৯৯৪: উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহকে দোষী সাব্যস্ত করে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কয়েক মাস আগে বাবরি মসজিদের পাশে বেদির নির্মাণ রুখতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। প্রতীকী সাজা হিসেবে একদিনের জন্য জেলবন্দি করা হয় তাঁকে। জরিমানা করা হয় ২০ হাজার টাকা। ইসমাইল ফারুকির মামলার শুনানি করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মসজিদ ইসলামের অখণ্ড অংশ নয়। যে কোনও জায়গায় নমাজ় পড়া যায়। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের বাবরি মসজিদ অধিগ্রহণ অনিয়ম নয়।১৯৯৬: লোকসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী হন অটলবিহারি বাজপেয়ী। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পেরে ১৬ দিনের মাথায় পদত্যাগ করতে হয় তাঁকে।১৯৯৮-১৯৯৯: কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফেরে বিজেপি। দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অটল বিহারি বাজপেয়ী। কিন্তু জয়ললিতা সমর্থন তুলে নিলে মাত্র ১৩ মাসের মাথায়, ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে আস্থা ভোটে মাত্র একটি ভোটের ব্যবধানে ফের সরকার পড়ে যায় বিজেপি-র। বাজপেয়ীর সরকার পড়ে যাওয়ায় এবং বিরোধীরা সংখ্যা না পেরে ওঠায়, লোকসভা ভেঙে দিয়ে ফের নির্বাচন হয়।আবারও ক্ষমতায় ফেরে বিজেপি।২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন বাজপেয়ী।২০০২: এলাহাবাদ হাইকোর্টে নতুন করে রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কের শুনানি শুরু হয়।
বিতর্কিত জমির উপর কার দাবি ন্যায্য, শুরু হয় সওয়াল জবাব।২০০৪: কেন্দ্রে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ঘটে কংগ্রেসের। উত্তরপ্রদেশের একটি আদালত জানায়, আডবানির ঘাড়ে দোষ ঠেলার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা উচিত।২০০৫: সন্দেহভাজন জঙ্গিরা বিতর্কিত ওই জায়গায় হামলা চালায়। পরিস্থিতির মোকাবিলা করে নিরাপত্তা বাহিনী, তাতে পাঁচ জঙ্গি এবং এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের মৃত্যু হয়।২০১০: চারটি মামলায় রায় ঘোষণা করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত জানায়, বিতর্কিত ওই জমিকে তিনটি ভাগে ভাগ করতে হবে, একটি অংশ যাবে ‘রামলালা’র কাছে, যাঁর হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছিল হিন্দু মহাসভা, দ্বিতীয় অংশ যাবে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে, তৃতীয় অংশ নির্মোহী আখড়ার হাতে উঠবে। কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।২০১১: এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে বিতর্কিত জমি নিয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত। আগের অবস্থাই বহাল থাকবে, কোথাও কোনও পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়ে দেয়।২০১৪: বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তায় ভর করে কেন্দ্রে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।২০১৫: রামমন্দিরের জন্য দেশব্যাপী পাথর সংগ্রহের ঘোষণা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের। ডিসেম্বরে বিতর্কিত ওই জমিতে দুই ট্রাক ভর্তি পাথর এসে পৌঁছে যায়। মহন্ত নিত্যানন্দ গোপাল দাস জানান, মোদি সরকার মন্দির নির্মাণে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। এবার মন্দির তৈরি করা যাবে। উত্তরপ্রদেশের পাথরের লরি ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানায় সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন অখিলেশ যাদবের সরকার।২০১৬: বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেন। বাবরি মসজিদের ওই বিতর্কিত জায়গায় রামমন্দিরের নির্মাণে অনুমতি প্রার্থনা করেন। বাবরি মসজিদ মামলার সবচেয়ে পুরনো আবেদনকারী, মহম্মদ হাশিম আনসারি, ৯৫ বছর বয়সে মারা যান।২০১৭: মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় লালকৃষ্ণ আডবানি এবং বাকিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।
নতুন করে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মেলে। একই সঙ্গে আদালতের বাইরে সব পক্ষ নিজেদের মতো করে বিষয়টি মিটিয়ে নিক বলে জানায় আদালত। এর পরই উত্তরপ্রদেশে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ঘটে বিজেপি-র। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন যোগী আদিত্যনাথ, যিনি হিন্দু যুব বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতাও। বিশেষ সিবিআই কোর্ট লালকৃষ্ণ আডবানি এবং বাকিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করলেও, জামিন মঞ্জুর করা হয় সকলের।২০১৮: রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কে নাগরিকদের দায়ের করা আবেদনের শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে। বাকি সমস্ত অন্তর্বর্তী আবেদন খারিজ করা হয়। আবেদন খারিজ হয় সুব্রহ্মণ্যম স্বামীরও। মামলাটিকে পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চেও পাঠাতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ।২০১৯: সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি এনভি রমণ, বিচারপতি ইউইউ ললিত এবং বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিয়ে তৈরি হয় ওই বেঞ্চ। মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন বিচারপতি ইউইউ ললিত। এর পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এসে নাজিরকে নিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠিত হয়। ১৪ অক্টোবর অযোধ্যা জেলায় ১৪৪ ধারা জারি হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলেও জানানো হয় প্রশাসনের তরফে। আদালতে শুনানির শেষ দিন হঠাৎই মুসলিম পক্ষের মূল মামলাকারী আদালতে জানান, নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নিতে চান তিনি। বিতর্কিত ওই জমির উপর কোনও অধিকারও আর জানাতে চান না।২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সকাল ১০.৩০টায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলায় রায় শোনায় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা সর্বসম্মতিতে যে রায় দেন, তাতে বলা হয়, বিতর্কিত ওই জায়গা, যেখানে বাবরি মসজিদ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, সেটি হিন্দুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে মসজিদ তৈরির জন্য অন্যত্র ৫ একর জমি দিতে হবে অযোধ্যাতেই।২০২০: বাবরি মসজিদের ভিতর রেখে আসা ‘রামলালা’র মূর্তি অস্থায়ী জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মার্চ মাসে।
শুরু হয় নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ ৫ অগাস্ট অযোধ্যার ওই জমিতে রামমন্দিরের ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৪০ কেজি ওজনের রুপোর ইট দিয়ে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গোটা দেশে ওই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। তবে অনুষ্ঠানে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় নাম থাকা কোনও অভিযুক্তকে দেখা যায়নি। এর পর সেপ্টেম্বর মাসে বিশেষ সিবিআই আদালতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় অভিযুক্ত ৩২ জনকেই বেকসুর খালাস করা হয়, যাঁদের মধ্যে লালকৃষ্ণ আডবানি, মুরলি মনোহর জোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিংহও ছিলেন।২০২৩: অক্টোবর মাসে শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানায়, এখনও পর্যন্ত মন্দিরের নির্মাণে ৯০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ব্যাঙ্কে পড়ে রয়েছে আরও ৩০০০ কোটি টাকা। নতুন বছরে মন্দিরের উদ্বোধন বলে জানানো হয়।২০২৪: ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন। প্রাণপ্রতিষ্ঠা নয়া ‘রামলালা’র মূর্তিতে। তবে ১৬ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি থেকেই শুরু আচার-অনুষ্ঠানের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দির উদ্বোধনে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন। বিরোধী শিবিরের রাজনীতিক থেকে শিল্পপতি, তারকাদেরও উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কংগ্রেস আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, অযোধ্যার মানুষ, তাঁদের আবেগ এবং আদালতের নির্দেশকে সম্মান করলেও, বিজেপি এবং তাদের অভিভাবক সংস্থা রাষ্ট্রীয় স্বয়ম সংস্থা রামমন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানকে নিজেদের প্রচারের কাজে লাগাচ্ছে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটবাক্স ভরতে বিজেপি গিমিক করছে বলে দাবি বিরোধীদের।
তবে এটি ও সংগ্রহ যে রাম মন্দির নির্মিত হয় একাদশ শতাব্দীতে অর্থাৎ ১ হাজার থেকে ১১শ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। এটা আমার মত নয়, প্রত্নতত্ত্ববিদদের মত। ১৫২৬ সালে প্রথম পানিপথের যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর দিল্লি দখল করে। এরপর মুসলমান শাসকদের যে চিরাচরিত প্রথা, ক্ষমতা দখল করেই ইসলামের ঝাণ্ডা উড়ানো এবং অমুসলিমদের উপাসনাস্থল ভেঙ্গে দিয়ে মসজিদ বানানো বা তাকে মসজিদে রূপান্তরিত করা, বাবর সেদিক নজর দেয়। এজন্য বাবরের নির্দেশে তার সেনাপতি মীর বাকি খাঁ ১৫২৭/২৮ সালে অযোধ্যা আক্রমণ করে প্রথমে কিছু হিন্দুকে হত্যা করে এবং বাকিদের বন্দি করে।
এরপর ভারতের প্রধান রাম মন্দির, যা রামের জন্মভূমি অযোধ্যাতেই অবস্থিত, সেটার উপরের অংশ ভেঙ্গে ফেলে এবং মন্দিরের মূলভিত্তির উপরেই মসজিদ তৈরি করে, যেটা বাবরি মসজিদ নামে পরিচিত। এই মসজিদ তৈরি করার সময় যেসব হিন্দুদেরকে বন্দি রাখা হয়েছিল, তাদের গলা কেটে প্রথমে একটি পাত্রে সেই রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং তারপর জলের পরিবর্তে চুন-সুড়কির সাথে সেই রক্ত মিশিয়ে মন্দিরের মূল ভিতের উপরই ইটের উপর ইট গেঁথে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তাই ইসলামী প্রথাসম্মত মসজিদ এটা নয়। ইসলামের বিজয় অভিযানে হিন্দুদের মনোবল ভাঙতে যত্রতত্র অসংখ্য মন্দির ভেঙ্গে যেমন বিজয় স্মারক নির্মিত হয়েছিল, বাবরি মসজিদও তেমনি বাবরের একটা বিজয় স্মারক। একইভাবে বাবর সম্বল ও চান্দেরীর মন্দির ভেঙ্গে তাকে মসজিদে রূপান্তরিত করে এবং গোয়ালিয়রের নিকটবর্তী জৈন মন্দির ও বিগ্রহ ধ্বংস করে।
বাবর যে রাম মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ বানিয়েছে, এর ঐতিহাসিক প্রমাণ হল- বাবরের আমলেই হিন্দুরা ২১ বার লড়াই করেছিল মন্দির উদ্ধারের জন্য। বাবর যদি মন্দির না ভেঙ্গে পৃথক একটি জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করতো, তাহলে কি হিন্দুরা সম্রাটের নির্মিত মসজিদকে ভেঙ্গে দিয়ে সেখানে মন্দির স্থাপন করার জন্য ২১ বার লড়াই করার মতো দুঃসাহস দেখাতো? আর এরকম দুঃসাহস দেখালে বাবর কি হিন্দুদের অস্তিত্ব তার সাম্রাজ্যে রাখতো? এরপর হুমায়ূনের রাজত্বকালে ১০ বার এবং আকবরের রাজত্বকালে ২০ বার হিন্দুরা রামজন্মভূমিতে মন্দির উদ্ধারের জন্য লড়াই করে। শেষে আকবর একটি আপোষ নিষ্পত্তি করে মসজিদের পাশেই রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয় এবং ছোট একটি মন্দির নির্মিত হয়। এসব উল্লেখ আছে আকবরের শাসনকালে রচিত ‘দেওয়ান-ই-আকবরি’ তে। ওখানে মন্দির যদি না-ই থাকতো, তাহলে হিন্দুরা এতবার লড়াই কেন করলো, কেন এইসব লড়াইয়ের ইতিহাস মুঘল ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হলো আর কেনই বা আকবর একটি আপোষ মীমাংসা করে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলো?
যাই হোক, আকবর মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় এবং মসজিদের পাশে একটি মন্দির নির্মিত হওয়ায় জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহানের আমলে এ নিয়ে কোন লড়াই-সংগ্রাম হয়নি। কিন্তু ঔরঙ্গজেবের সেটা সহ্য হলো না। সে একটি বাহিনী পাঠায় ঐ মন্দির ধ্বংস করার জন্য। ১০ হাজার লোক নিয়ে বৈষ্ণব দাস মহারাজ নামে এক সাধু, ঔরঙ্গজেবের ওই বাহিনীকে প্রতিরোধ করে, ফলে সেবার মন্দির রক্ষা পায়। এরপর আরও কয়েকবার ঔরঙ্গজেব মন্দির ধ্বংসের জন্য তার বাহিনী পাঠায়। কিন্তু প্রতিবারই হিন্দু এবং শিখগুরু গোবিন্দ সিংহের নেতৃত্বে শিখরা মিলে মন্দিরকে রক্ষা করে বা দখলকৃত মন্দিরকে আবার উদ্ধার করে। কিন্তু ঔরঙ্গজেব দমবার পাত্র ছিল না। মুঘল সৈন্যরা এক রমজান মাসের সপ্তম দিনে হঠাৎ আক্রমণ করে আকবরের সময়ে মসজিদের পাশে নির্মিত হওয়া ঐ রাম মন্দিরকে ভেঙ্গে ফেলে এবং হিন্দুরা বাধা দিতে এলে প্রায় ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করে। মুঘলদের আরও এক ইতিহাসের বই ‘আলমগীরনামায়’ এই ঘটনার উল্লেখ আছে।
এরপর ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় হনুমান গড়ির মোহন্ত উদ্ভব দাস অস্ত্র হাতে নিয়ে রামজন্মভূমিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সেই সময় অযোধ্যার নবাব ফরমান আলীর মুসলিম সৈন্যদের সাথে হিন্দুদের যুদ্ধ হয়। শেষে নবাব একটি ফরমান জারি করে একটি প্রাচীর ঘেরা জায়গায় মন্দির নির্মাণ ও পূজা উপাসনার অনুমতি দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটায় এবং হিন্দু ও মুসলিম সৈন্যরা মিলিতভাবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহে অংশ নেয়। মূলত নবাব এই আপোষ করতে বাধ্য হয়েছিল সিপাহী বিদ্রোহে হিন্দু ও মুসলিম সৈন্যদের একত্রিত করার স্বার্থে। কিন্তু সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে এইসব কিছুই জলে যায়। ইংরেজরা ঐ রাম জন্মভূমিরই একটি তেঁতুল গাছে অনেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারে এবং নবাবের ফরমান ইংরেজরা বাতিল করে দেয়; ফলে আবারও হিন্দুরা ঐ স্থানে পূজা-প্রার্থনার অধিকার হারায়। শুধু তাই নয়, ইংরেজরা ঐ তেঁতুল গাছটিকেও সমূলে উপড়ে ফেলে।
এরপর ১৯১২ সালে হিন্দুরা নির্মোহ আখড়ার সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে বহু প্রাণের বিনিময়ে জন্মভূমির একাংশ উদ্ধার করে এবং বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য লড়াই হয় ১৯৩৪ সালে। এরপরই ইংরেজরা অযোধ্যার ঐ স্থানে হিন্দু মুসলমান সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। সেই থেকেই বাবরি মসজিদে কেউ নামাজ পড়েনি। ফৈজাবাদ কালেক্টরির রেকর্ডে লিপিবদ্ধ আছে এসব ইতিহাস। ভাঙার সময় বাবরি মসজিদ যে একটি পরিত্যক্ত মসজিদ ছিলো, তা জঙ্গল ও গাছপালায় ভরা এবং ক্ষয়ে যাওয়া মসজিদের দেয়ালের ছবি দেখে তা সহজেই বোঝা যায়।
১৫২৭ সাল থেকে হিন্দুরা রাম মন্দির উদ্ধারের জন্য লড়াই করেছে বা চেষ্টা করেছে, ছোট-বড় মিলিয়ে মোটামুটি ৭৬ বার। ৭৭তম বারের প্রচেষ্টায় ১৯৯২ সালে হিন্দুরা দখল, রূপান্তর ও অসহিষ্ণুতার প্রতীক বাবরি মসজিদকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়। কিন্তু এই শেষবারের প্রচেষ্টাও ছিল প্রায় সোয়া ২ বছরের। হিন্দুরা প্রথম ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০ সালে জনসংকল্প দিবস পালন করে। এরপর বহু জেল জরিমানা হুমকি অগ্রাহ্য করে কিছু প্রাণের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলে বাবরি মসজিদ। তাই এই ৬ ডিসেম্বর হিন্দুদের কাছে ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে বিবেচিত ও পরিচিত।
কলমে- ব্রহ্মনন্দজি।
#সংগৃহীত।
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
