দিঘা-মন্দারমনি-তাজপুর! বাঙালির রন্ধ্রে মিশে। যখনই সময় পাচ্ছেন, উইকএন্ডে দু-একদিনের জন্য টুক করে সমুদ্র দর্শন করে আসছেন। সঙ্গে মাছ ভাজা, কাঁকড়া, নোনা জল, সমুদ্রের হাওয়া।রামনগরের একটি হোটেলে হানা দিয়েছে পুলিশ। হোটেলের দুই লিজ মালিক-সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে মন্দারমনি উপকূল থানার পুলিশ। আটক করা হয়েছে ১৬ যুবতীকেও। নেপথ্যে উঠে এসেছে সেই একই ‘শাটল ট্রিপ’র তথ্য।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য সরকারের তরফে দিঘাকে ঢেলে সাজানোও হয়েছে। ‘কমিউনিকেশন’ও এখন দারুণ। তাই আর কোনও অসুবিধা হওয়ারও কথা নয়। বর্ষশেষে ভালই ভিড় জমছে দিঘা-মন্দারমন্দিতে। আর এরই ফাঁকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এক নতুন ব্যবসা। যার পোশাকি নাম ‘শাটল ট্রিপ’। আর এই ব্যবসায় নেমেছেন মূলত, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, কিংবা মফ্ফস্বলের শিক্ষিত মেয়েরাই। প্রশাসনের একাংশের কাছেই জমা পড়ছে বিস্তর অভিযোগ। প্রশাসনেরই একাংশের খবর, দিঘা-মন্দারমনি, তাজপুরে শহর, শহরতলি থেকে অল্প বয়সী মেয়েরা আসছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কলেজছাত্রী, কেউবা কোনও কর্পোরেটে কাজ করেন, কেউ অন্য কোনও সংস্থায়।দিঘা-মন্দারমনি-তাজপুর! বাঙালির রন্ধ্রে মিশে। যখনই সময় পাচ্ছেন, উইকএন্ডে দু-একদিনের জন্য টুক করে সমুদ্র দর্শন করে আসছেন। সঙ্গে মাছ ভাজা, কাঁকড়া, নোনা জল, সমুদ্রের হাওয়া।রামনগরের একটি হোটেলে হানা দিয়েছে পুলিশ।
হোটেলের দুই লিজ মালিক-সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে মন্দারমনি উপকূল থানার পুলিশ। আটক করা হয়েছে ১৬ যুবতীকেও। নেপথ্যে উঠে এসেছে সেই একই ‘শাটল ট্রিপ’র তথ্য। পুলিশ জেরায় জানতে পেরেছেন, ওই যুবতীরা বেশিরভাগই জেলার বাইরে থাকেন। তাঁরা কলকাতা- অন্যান্য জেলা থেকে গাড়ি ধরে সন্ধ্যায় পৌঁছেছেন সেখানে ২-৩টি হোটেলে বুকিং থাকছে। প্রত্যেক হোটেলের ঘরে সময় বাঁধা ১ ঘণ্টা। মিলছে মোটা টাকার পারিশ্রমিকও। রাত কাবার, পয়সা পকেটে। অতঃপর ভোরের বাস ধরে আবার নিজ নিজ ভূমে।সম্প্রতি নদিয়ার তাহেরপুরের একটি যুবতীর দেহ মন্দারমনিতে উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে সেক্ষেত্রেও পুলিশের হাতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, তাহেরপুরের ওই যুবতী বারাসতের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। দিদির বাড়িতে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। তারপর গাড়ি ধরে সোজা রামনগর। সেখান থেকে এজেন্ট ধরে মন্দারমনি। আর তারপর ‘অ্যাসাইমেন্ট’! কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রাণ দিতে হয়েছিল তাঁকে।ওই যুবতীর দাদার বয়ানে সেসময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, মন্দারমনি ঢোকার আগেই চাউলখোলা, রামনগর, তাজপুরে কয়েকটি পকেট তৈরি হয়েছে। বিকালের পর ধর্মতলার বাস সেখানে স্টপেজ দিতেই, এজেন্টরা ঘাপটি মেরে থাকেন চায়ের দোকান, পাড়ার গলিতে। আর যাঁরা বিশেষ ‘অ্যাসাইনমেন্টের’ খোঁজে যাচ্ছেন, সুযোগ বুঝে তাঁদের টোপ দিচ্ছেন। ডিলে রাজি থাকলে, তাঁরাই ধরে দিচ্ছেন কাস্টমার। এই এলাকাগুলি এমন জায়গায়, যে রাস্তা পার করেই ঢুকতে হবে মন্দারমনি, তাজপুরে। এরপর কাস্টমারের গাড়িতেই সেই যুবতীরা পৌঁছে যাচ্ছেন গন্তব্যে।
হোটেলের রুমে ‘শাটল ট্রিপ’! দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই দু-তিনটি হোটেল ‘ভিজিট’ করে নেন যুবতীরা।বুধবারই পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে। মন্দারমনির হোটেলে তল্লাশি চালাতেই পর্দাফাঁস। গ্রেফতার করা হয় ১৬ যুবতীকে। পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মতে, আসলে যাদেরকে মূলত গ্রেফতার করা হচ্ছে, বা এই ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ছেন, তারা প্রত্যেকেই কর্মরত। আবার অনেকে কলেজ ছাত্রীও রয়েছেন। যারা বাড়তি পয়সা কিংবা উপঢৌকনের লোভে এই ‘শাটল ট্রিপ’ খাটছেন। কেউ বলছেন, রাতে অফিসে কাজের চাপ, কেউবা বলছেন বন্ধুর বাড়িতে পার্টি। তাঁরা ফের ভোরের বাস ধরে ফিরেও যাচ্ছেন। অন্ততপক্ষে ১৬ জন যুবতীকে জেরা করেও এই একই ধরনের তথ্য মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।তবে পুলিশ এটাও বলছে, এই ধরনের ব্যবসার রমরমা মূলত রামনগর, তাজপুর, মন্দারমনিতেই। কারণ দিঘাতে প্রচুর মানুষের ভিড়ে থাকে বাড়তি নজরদারিও। তুলনামূলক ভাবে মন্দারমনি, তাজপুরে এখনও কম পয়সার হোটেল পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনও এই বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মী বলেন, “আমার কাছে খবর আসে। আমরা রেইডও করি। তবে পকেট এরিয়াগুলো নজরদারির আরও প্রয়োজন রয়েছে। ওখানেই এজেন্টদের আখড়া।”বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বও। কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি নেতা অসীম মিশ্র বলেন, “আমরা গোটা বিষয়টি জানি। প্রথমত এটা একটা সামাজিক সমস্যা। এখন যুব সমাজের মধ্যে অন্য সংস্কৃতি কাজ করছে। দারিদ্রতার সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। আমার কাছে খবর আছে ১৮ বছরের নীচের মেয়েরাও আসছে এই কাজ করতে। আসলে আগে অবৈধভাবে গজিয়ে ওঠা হোটেলগুলোকেই বন্ধ করতে হবে।
”রামনগর ১ব্লক তৃণমূল সভাপতি ও রামনগর ১পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই চরণ সার বলেন, “আমরা সজাগ। আইন ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা বৈঠক করে প্রত্যেক হোটেলের মালিকদের ডেকে সচেতন করব। এটাকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।”কাঁথি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা বলেন ” তাজপুরের একটি হোটেলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ১৬ জন যুবতীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি হোটেলের দু’জন লিজ মালিক সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই ঘটনা আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা, অন্য কোন হোটেলে যুবতী রাখা হয়েছে নাকি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আগামী দিনেও এই ধরণের অভিযান চলবে।” বুধবারই পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে। মন্দারমনির হোটেলে তল্লাশি চালাতেই পর্দাফাঁস। গ্রেফতার করা হয় ১৬ যুবতীকে। পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মতে, আসলে যাদেরকে মূলত গ্রেফতার করা হচ্ছে, বা এই ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ছেন, তারা প্রত্যেকেই কর্মরত।মন্দারমনিতে বর্ষশেষে উদ্দাম যৌনতার ঢেউ, কলকাতা থেকে যাচ্ছেন কলেজছাত্রী-কর্পোরেট গার্লরা!
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
