আধিচেতনা

তবে তোমার ব্যক্তিত্ব কোথায় ? মনের সম্বন্ধেও এই কথা খাটে । তবে তোমার ব্যক্তিত্ব কোথায় ? আজ তোমার এক রকম ভাব, আবার কাল আর এক ভাব ! যখন শিশু ছিলে তখন যেরূপ চিন্তা করিতে, এখন আর সেরূপ চিন্তা কর না ; বা যুবা অবস্থায় মানুষ যেরূপ চিন্তা করিয়াছে, বৃদ্ধ হইয়া সেরূপ চিন্তা করে না।

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ যদি যুক্তিবাদী হইতে চাও তবে বরাবর যুক্তিবাদী হও। যদি না পারো, তবে তুমি নিজের জন্য যেটুক, স্বাধীনতা চাও, অপরকে সেটুক, দাও না কেন ? এইরূপে ঈশ্বরের অস্তিত্ব তুমি কিভাবে প্রমাণ করিবে ? অপর দিকে, প্রমাণ করা যাইতে পারে—ঈশ্বরের অস্তিত্ব নাই । তাঁহার অস্তিত্ব-বিষয়ে কোন প্রমাণ নাই, বরং অনস্তিত্ব বিষয়ে কতক গুলি প্রমাণ আছে। তোমার ঈশ্বর, তাঁহার গুণ, অসংখ্য জীবাত্মা, আবার প্রত্যেক জীবাত্মাই ব্যক্তি—এই-সকল লইয়া তুমি কেমন করিয়া তাঁহার অস্তিত্ব প্রমাণ করিতে পারো ? তুমি ব্যক্তি কিসে ? দেহরূপে তুমি ব্যক্তি নও, কারণ তোমরা আজ প্রাচীন বৌদ্ধগণ অপেক্ষাও ভালরূপে জানো যে, এক সময় হয়তো যে পদার্থ সূর্যে ছিল, আজ তাহা তোমাতে আসিয়া থাকিতে পারে, আর হয়তো এখনই তাহা বাহির হইয়া গিয়া বৃক্ষলতাদিতে থাকিতে পারে। তবে তোমার ব্যক্তিত্ব কোথায় ? মনের সম্বন্ধেও এই কথা খাটে ।

তবে তোমার ব্যক্তিত্ব কোথায় ? আজ তোমার এক রকম ভাব, আবার কাল আর এক ভাব ! যখন শিশু ছিলে তখন যেরূপ চিন্তা করিতে, এখন আর সেরূপ চিন্তা কর না ; বা যুবা অবস্থায় মানুষ যেরূপ চিন্তা করিয়াছে, বৃদ্ধ হইয়া সেরূপ চিন্তা করে না। তবে তোমার ব্যক্তিত্ব কোথায় ? জ্ঞানেই তোমার ব্যক্তিত্ব—এ কথা বলিও না, জ্ঞান অহংতত্ত্বমাত্র, আর উহা তোমার প্রকৃত অস্তিত্বের অতি সামান্য-অংশব্যাপী। আমি যখন তোমার সহিত কথা বলি, তখন আমার সকল ইন্দ্রিয় কাজ করিতেছে, কিন্তু, আমি সে-সম্বন্ধে জানিতে পারি না। যদি জ্ঞানই অস্তিত্বের প্রমাণ হয়, তবে বলিতে হইবে ইন্দ্রিয়সমূহে নাই, কারণ আমি তো উহাদের অস্তিত্ব জানিতে পারি না। তবে আর তোমার ব্যক্তিবিশেষ ঈশ্বর সম্বন্ধে মতবাদগুলি কোথায় দাঁড়ায় ? এরূপে ঈশ্বর তুমি কিভাবে প্রমাণ করিতে পারো ? কিভাবে প্রমাণ করিতে পারো ?

আবার বৌদ্ধেরা উঠিয়া বলিলেন : ইহা যে শুধু অযৌক্তিক তাহা নহে, এরপ বিশ্বাস নীতিবিরুদ্ধও বটে, কারণ উহা মানুষকে কাপুরুষ হইতে এবং বাহিরের সাহায্য প্রার্থনা করিতে শিখায়— কেহই কিন্তু তাহাকে এরূপ সাহায্য করিতে পারে না। এই ব্রহ্মাণ্ড পড়িয়া রহিয়াছে, মানুষই ইহা এরূপ করিয়াছে। তবে কেন বাহিরের একজন কাল্পনিক ব্যক্তিবিশেষে বিশ্বাস কর, যাঁহাকে কেহ কখন দেখে নাই বা অনুভব করে নাই, অথবা যাঁহার নিকট হইতে কেহ কখনও সাহায্য পায় নাই ? তবে কেন নিজেদের কাপুরুষ করিয়া ফেলিতেছ, আর তোমাদের সন্তান-সন্ততিকেই বা কেন শিখাইতেছ যে, মানুষের সর্বোচ্চ অবস্থা কুকরের মতো হওয়া, এবং এক কাল্পনিক পুরুষের সম্মখে নিজেকে দুর্বল, অপবিত্র ও জগতে অতি হেয় অপদার্থ মনে করিয়া হাঁটু গাড়িয়া থাকা ?

অপর দিকে বৌদ্ধগণ তোমাকে বলিবেন : তুমি নিজেকে এইরূপ বলিয়া শুধু যে মিথ্যাবাদী হইতেছ তাহা নহে, পরন্তু, তোমার সন্তানসন্ততিরও ঘোর অনিষ্টের কারণ হইতেছ। কারণ এইটি বিশেষ করিয়া লক্ষ্য করিও যে, মানুষ যেমন চিন্তা করে, তেমনই হইয়া যায়। নিজেদের সম্বন্ধে তোমরা যেমন বলিবে, ক্রমশঃ তোমাদের বিশ্বাসও তেমনি দাঁড়াইবে। ভগবান বুদ্ধের প্রথম কথাই এই ঃ তুমি যাহা ভাবিয়াছ, তাহাই হইয়াছ ; আবার যাহা ভাবিবে, তাহাই হইবে। ইহাই যদি সত্য হয়, তবে কখনও ভাৰিও না যে, তুমি কিছুই নও; আর যতক্ষণ না তুমি এমন কাহারও সাহায্য পাইতেছ—যিনি এখানে থাকেন না, মেঘরাশির উপর বাস করেন— ততক্ষণ তুমি কিছু করিতে পার না, ইহাও ভাবিও না । ঐরূপ ভাবিলে তাহার ফল হইবে এই যে, তুমি দিন দিন অধিকতর দুর্বল হইয়া যাইবে । আমরা অতি অপবিত্র, হে প্রভো, আমাদিগকে পবিত্র কর—এই রূপ বলিতে বলিতে নিজেকে এমন দুর্বল করিয়া ফেলিবে যে, তাহার ফলে সকল প্রকার পাপের দ্বারা সম্মোহিত হইবে ।

বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই   NEWS UAP  পেজ এর ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *