দিল্লির কর্মসূচির দিনই ডাক পড়ল অভিষেকের

সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র বাদে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের বাকি ডিরেক্টরদের কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না, কয়েক দিন আগেই সেই প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট।ঠিক কবে অভিষেকের বাবা এবং মাকে তলব করা হয়েছে, তা সরকারি ভাবে জানা যায়নি৷ ইডি সূত্রে অবশ্য খবর, আগামী ৬ অথবা ৭ অক্টোবর অমিত এবং লতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজিরা দিতে বলা হতে পারে৷

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ আগামী ৩ অক্টোবর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের তলব করেছে ইডি৷ তার কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেকের বাবা-মাকেও তলব করা হয়েছে বলে জানা যায়৷ লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থায় আর্থিক তছরূপের তদন্তের সূত্রেই অমিত এবং লতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছে৷ তাঁদেরকে নিজেদের নামে থাকা যাবতীয় সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি নিয়েই ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে৷শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, এবার তাঁর বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করল ইডি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই তাঁদের দু জনকে তলব করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।অমিত এবং লতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার ডিরেক্টর।সেই সূত্রেই তাঁদের তলব করা হয়েছে বলে খবর। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র বাদে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের বাকি ডিরেক্টরদের কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না, কয়েক দিন আগেই সেই প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট।ঠিক কবে অভিষেকের বাবা এবং মাকে তলব করা হয়েছে, তা সরকারি ভাবে জানা যায়নি৷ ইডি সূত্রে অবশ্য খবর, আগামী ৬ অথবা ৭ অক্টোবর অমিত এবং লতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজিরা দিতে বলা হতে পারে৷আগামী ৩ অক্টোবর ফের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি৷ আগামী ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে দশটায় তাঁকে সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে৷ নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাতেই অভিষেককে এবারেও তলব করা হয়েছে৷ গত ১৩ সেপ্টেম্বরও ইডি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক৷আগামী ৩ অক্টোবরই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে তৃণমূলের ধরনা কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলের৷ ২ এবং ৩ অক্টোবর থেকে সেই ধরনা চলার কথা৷ সেই কর্মসূচিতে অভিষেকের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েও উপস্থিত থাকতে পারেন৷

এর আগে অবশ্য অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি৷ এবার তাঁর বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান ইডি-র তদন্তকারীরা৷তৃণমূল প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই বারবার অভিষেককে তলব করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এবার দিল্লির কর্মসূচির দিন ফের তাঁকে তলব করায় একই প্রশ্ন তুলছে ঘাসফুল শিবির।নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তলব করা হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আগামী ৩ অক্টোবর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ঘটনাচক্রে ওই দিন দিল্লিতে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলের। আর সেই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার কথা অভিষেকের।

তাই ৩ অক্টোবর অভিষেক হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, দলীয় কর্মসূচির দিনটাকে বেছে নিয়ে ইডি আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে বিজেপি অভিষেক-ফোবিয়ায় ভুগছে।আগামী ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টায় সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে অভিষেককে। সেই নোটিসের কথা এক্স মাধ্যমে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘রাজ্যের প্রাপ্য টাকার দাবি জানিয়ে যে দিন দিল্লিতে কর্মসূচি রয়েছে, সেদিনই তলব করা হল। এতেই প্রমাণ হয় আসলে কারা ভয় পাচ্ছে।’ চলতি মাসেই ইডি তলব করেছিল অভিষেককে। প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাঁকে। জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে অভিষেক দাবি করেছিলেন, অন্তঃসারশূন্য। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওইদিন ইডি-র তলবে সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা কম। ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লিতে কর্মসূচি হওয়ার কথা তৃণমূলের। অভিষেকের নেতৃত্বে সেই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন কয়েক হাজার কর্মী। তাই ওই কর্মসূচি ছেড়ে অভিষেক কলকাতায় হাজিরা দিতে আসবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “যা করা উচিত, অভিষেক মাথা উঁচু করে সেই পদক্ষেপই করবেন।”

তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন দাবি করেন, বিজেপি ভয় পাচ্ছে বলেই অভিষেকের বিরুদ্ধে এইসব পদক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, “আরও একবার বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণতা প্রমাণ হল। বোঝা গেল বিজেপি অভিষেক-ফোবিয়ায় ভুগছে।” এর আগে যে দিন অভিষেককে তলব করা হয়েছিল, সে দিন ছিল ইন্ডিয়া জোটের সমন্বয় কমিটির বৈঠক। দিল্লি যাওয়া বাতিল করে সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন অভিষেক। উল্লেখ্য, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র গ্রেফতার হওয়ার পরই প্রশ্ন ওঠে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা নিয়ে। সেই সূত্রেই অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। গত সোমবার সেই মামলা চলাকালীন ইডি অফিসারকে বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সম্পর্কিত অনেক তথ্য় নেই রিপোর্টে। সাংসদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য না থাকাতেও ইডি-কে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারপতি। এরপরই ফের তলব করা হল অভিষেককে।আগামী ২ এবং ৩ অক্টোবর বাংলার পাওনা চেয়ে দিল্লিতে ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। কর্মসূচি চলাকালীন অভিষেকেরও দিল্লিতে থাকার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবারই এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে অভিষেক জানিয়েছেন, ইডি তাঁকে সেই সময়েই তলব করেছে। আগামী ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার সময়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস মামলায় অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ওই সপ্তাহেই ডেকে পাঠানো হয়েছে।অভিষেক বৃহস্পতিবার এক্সে নাম না-করে আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ঠিক যখন বাংলার পাওনা চেয়ে আমাদের দিল্লিতে যাওয়ার কথা, সেই সময়েই তলব করা হল আমাকে। অতএব, বোঝা যাচ্ছে কারা আসলে ভীত এবং সন্ত্রস্ত। কারা ভয়ে কাঁপছে!’’এর আগে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কো অর্ডিনেশন কমিটির প্রথম বৈঠকের দিন ডেকে পাঠানো হয়েছিল অভিষেককে। কমিটির সদস্য হিসাবে দিল্লিতে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বৈঠকে না গিয়ে ইডির সমনে সাড়া দিয়ে সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজিরা দেন অভিষেক। দিল্লিতে তার চেয়ার ফাঁকা রেখে বৈঠক করেন ‘ইন্ডিয়া’র কো অর্ডিনেশন কমিটির অন্য সদস্যেরা। এ বারও দিল্লিতে তৃণমূলের ঘেরাও কর্মসূচির সময়েই ডেকে পাঠানো হল তাঁকে। অভিষেক সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, আগের বার তিনি তাঁর কর্তব্য পালন করেছিলেন।

এই নিয়ে বেশ কয়েক বার ইডি ডেকে পাঠাল অভিষেককে। এর মধ্যে এক বার ইডির সমনে সাড়া দিল্লিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। পঞ্চায়েত ভোটের আগে তৃণমূলের ‘নবজোয়ার যাত্রা’র সময়েও তাঁকে ডেকে পাঠানো হয় সিজিও কমপ্লেক্সে। কিন্তু প্রচারে ব্যস্ত থাকায় অভিষেক জানিয়েছিলেন, তাঁর পক্ষে ওই সময় প্রচার ছেড়ে ইডির দফতরে যাওয়া সম্ভব নয়। ভোট শেষ হওয়ার পর ইডি ডাকলে তিনি যাবেন বলে জানান। সেই মতো সেপ্টেম্বরের শুরুতে অভিষেককে ডাকা হয়। কিন্তু এ বারও তাঁর বৈঠক ছিল। অভিষেক অবশ্য কথা রাখেন। বৈঠকে না-গিয়ে ইডির দফতরে যান এবং বেরিয়ে বলেন, ‘‘এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের নিট ফল শুধু শূন্য নয় মাইনাস টু। তবে আমাকে আবার ডাকলে আবার আসবে।’’ তার পর এক মাসও কাটেনি। তার মধ্যেই আবার সমন এসে পৌঁছল অভিষেকের কাছে।

অভিষেককে এ ভাবে বার বার তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়েই ইডির ডেকে পাঠানো নিয়ে বৃহস্পতিবার সরব হয়েছে তৃণমূলও। নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল। তারা লিখেছে, ‘‘বিজেপি আর কত নীচে নামবে? প্রথমে তোমরা বাংলার মানুষের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের নিপীড়ন করবে। আর এখন যখন বাংলার মানুষ তাঁদের অধিকারের দাবিতে আওয়াজ তুলছে, তখন তাদেরও চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’ তৃণমূল আরও লিখেছে, ‘‘বিজেপি তাদের খাঁচায় ভরা টিয়া ইডিকে কাজে লাগিয়ে আবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে তলব করেছে আগামী ৩ অক্টোবর, যে দিন দিল্লিতে দলের ঘেরাও কর্মসূচি হওয়ার কথা।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র স্রেফ ভস্মে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে তৃণমূল। তারা লিখেছে, ‘‘এমন ঘটনা চোখের সামনে দেখাও লজ্জার।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *