সমবায় সমিতিতে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি

গরিব মানুষের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গ্রামের মানুষ সব্জি বিক্রি করে ওই টাকা রেখেছিল। প্রতারণা করা হয়েছে। যত বড় প্রভাবশালী হোক, গ্রেপ্তার করুন। এঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া উপায় নেই। দ্রুত তদন্ত শুরু করুন।’প্রাথমিকভাবে এই তদন্তের দায়িত্ব ছিল রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার সিআইডি-র হাতে। ৫ জন গ্রেফতার হলেও আমানতকারীরা টাকা ফেরত না পাওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপরই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তভার দেওয়া হয়।৫০ কোটি টাকার সমবায় দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর ভরসা রেখেছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও।

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ   ঋণদান সমবায় সমিতিতে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় এবার জরিমানার মুখে রাজ্য। নির্দেশ পালন না করে উল্টে তা পুর্নবিবেচনার আবেদন জানানোয়, শুক্রবার রাজ্যকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
গত ২৪ আগস্ট জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে আলিপুরদুয়ার মহিলা ঋণদান সমবায় সমিতিতে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্তভার সিআইডির হাত থেকে নিয়ে সিবিআই ও ইডিকে দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর না করে তা পুনর্বিবেচনার জন্য আর্জি জানায় সিআইডি। সেই আর্জি খরিজ করে আগের নির্দেশ কার্যকর না করায়, রাজ্যকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। এদিন সিবিআই জানায়, এই মামলার কোনও নথি তাদের দেয়নি সিআইডি।

যা শুনেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে সমস্ত নথি তুলে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘টাকা কারা আত্মসাৎ করেছে, আমি জানি। যাঁরা সাইকেল চড়ে ঘুরত, গরিব মানুষের টাকা মেরে তাঁরা এখন গাড়ি চড়ছে। আদালতের সঙ্গে খেলা হচ্ছে! এত দিন ধরে আপনারা তদন্ত করলেন। কেন কিছু হল না? সেজন্যই সিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। তিন দিনের মধ্যে সিবিআইয়ের হাতে নথি না দিলে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ডেকে পাঠাব।’পাশাপাশি সিবিআই ও ইডিকে বিচারপতি বলেন, ‘এটা ৫০ কোটির দুর্নীতি। গরিব মানুষের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গ্রামের মানুষ সব্জি বিক্রি করে ওই টাকা রেখেছিল। প্রতারণা করা হয়েছে। যত বড় প্রভাবশালী হোক, গ্রেপ্তার করুন।

এঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া উপায় নেই। দ্রুত তদন্ত শুরু করুন।’প্রাথমিকভাবে এই তদন্তের দায়িত্ব ছিল রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার সিআইডি-র হাতে। ৫ জন গ্রেফতার হলেও আমানতকারীরা টাকা ফেরত না পাওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপরই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তভার দেওয়া হয়।৫০ কোটি টাকার সমবায় দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর ভরসা রেখেছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও। ইডি ও সিবিআই ওই মামলার তদন্ত করবে বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পরে সেই নির্দেশই বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ।

এবার আলিপুরদুয়ারের সেই মামলার তদন্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সতর্ক করলেন বিচারপতি। আবার একটা সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মতো কিছু না ঘটে, সে ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছেন তিনি। তদন্ত কোন পথে এগোচ্ছে, সে ব্যাপারে আদালতে রিপোর্ট দেবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আগামী ১৮ অক্টোবর রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের আশা, এই দুর্নীতির ক্ষেত্রে তদন্তে সিবিআই ও ইডি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “কালপ্রিট যে কাউকে কিনতে পারে। এই তদন্ত সরদার মতো হতে দেওয়া যাবে না।

” প্রাথমিকভাবে এই তদন্তের দায়িত্ব ছিল রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার সিআইডি-র হাতে। ৫ জন গ্রেফতার হলেও আমানতকারীরা টাকা ফেরত না পাওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপরই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তভার দেওয়া হয়। ইডি ও সিবিআই-কে সিআইডি কোনও তথ্য না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি। ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করেছিলেন সিআইডি-র জন্য।বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা উঠলে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তভার দেওয়ার নির্দেশ বহাল থাকে। তবে সিআইডি-কে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ খারিজ হয়ে যায়।আলিপুরদুয়ারের মহিলা ঋণদান সমবায় সমিতিতে ৫০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল প্রথমে। এই মামলায় বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘গরীবের টাকা নিয়ে আপনারা ছেলেখেলা করছেন।’ এবার কেন্দ্রীয় সংস্থা আসল অপরাধীদের সামনে আনতে পারে কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *