সেনা এবং জঙ্গিদের এই সংঘর্ষে দুই সেনাকর্তা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক ডিএসপির মৃত্যু হয়। নিখোঁজ এক জওয়ান। সেই সংঘর্ষ এখনও থামেনি। জঙ্গিদের বাগে আনতে লড়াই চালাচ্ছে সেনা। তার মধ্যেই বারামুলায় হামলার ছক ভেস্তে দিল সেনা।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতীয় সেনার পির পঞ্জাল ব্রিগেডের কমান্ডার পিএমএস ধিলোঁ জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেনা এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায় বারামুলায়। জঙ্গিরা সেখান দিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করছে, জানতে পেরেছিলেন তাঁরা। ধিলোঁর কথায়, ‘‘তিন জন জঙ্গি ছিল। দু’জনকে তৎক্ষণাৎ খতম করা হয়। তাদের দেহও উদ্ধার করা হয়। তৃতীয় জঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু তার দেহ উদ্ধারে সমস্যা হয়। ওদের বাঁচাতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ও পার থেকে পাকিস্তানের সেনারা গুলি চালাচ্ছিলেন।
’’সেনা সূত্রে খবর, নিহত জঙ্গিদের পকেট থেকে পাকিস্তানের টাকা মিলেছে। কিছু ভারতীয় মুদ্রাও ছিল তাঁদের সঙ্গে। এ ছাড়া, দু’টি একে রাইফেল, অনেক কার্তুজ, একটি পিস্তল, সাতটি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি বিস্ফোরক ডিভাইসও বারামুলায় নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছেন ভারতীয় জওয়ানেরা। সংবাদসংস্থা এএনআই উদ্ধারকৃত বস্তুর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে।কাশ্মীরের অনন্তনাগে ভারতীয় সেনার সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই চলছে গত বুধবার থেকে। চার দিন পরেও সংঘর্ষ থামেনি। সেই সংঘর্ষেই ভারতের দুই সেনাকর্তা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক ডিএসপির মৃত্যু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সংঘর্ষের আবহে বারামুলাতেও নতুন করে হামলার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। আপাতত তা ভেস্তে দেওয়া গিয়েছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, কোনও পক্ষই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় গোলাগুলি চালাবে না। জঙ্গিদের বাঁচাতে পাক সেনাচৌকি থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে ভারতীয় সেনা। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করেছে।জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগের সংঘর্ষ এখনও চলছে। তার মধ্যেই শনিবার বারামুলায় জঙ্গিদের সঙ্গে নতুন করে গুলির লড়াই শুরু হয় সেনার। সেনা সূত্রে খবর, তিন জঙ্গি শনিবার ভোরে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে হাতলাঙ্গা নালা দিয়ে উরিতে ঢোকার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সেই অনুপ্রবেশেরে চেষ্টা ভেস্তে দেয় সেনা।সেনা সূত্রে খবর, তিন জঙ্গি ওই নালা দিয়ে গোপনে ঢোকার চেষ্টা করছিল।
খবর পেয়েই তল্লাশি অভিযানে নামে সেনা এবং পুলিশের যৌথবাহনী। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে জঙ্গিরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় যৌথবাহিনীও। বেশ কিছু ক্ষণ গুলির লড়াই চলে দু’পক্ষের মধ্যে। সেই সংঘর্ষে দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। তৃতীয় জঙ্গি গুরুতর জখম হয়েছে। দুই জঙ্গির দেহ উদ্ধার হয়েছে। জখম জঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছে বলে সেনা সূত্রের দাবি। ওই জঙ্গির দেহ উদ্ধার করতে যেতেই নিয়ন্ত্রণরেখার ওপার থেকে পাকবাহিনীর চৌকি থেকে গুলি চালানো হচ্ছে বলে সেনা সূত্রে খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা খবর পেয়েছিল বারামুলায় বেশ কয়েক জন জঙ্গি আশ্রয় নিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর পাওয়ার পরই হাতলাঙ্গা নালা এবং তার আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে সেনা এবং পুলিশের যৌথবাহিনী। সেই সময় বাহিনী দেখে কয়েক জন জঙ্গি ওই নালায় লুকিয়ে রয়েছে। যৌথবাহিনী তাদের ঘিরে ফেলায় জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। যদিও এ যাত্রায় জঙ্গিরা পালানোর সুযোগ পায়নি। সেনার গুলিতে নিহত হয়েছে দুই জঙ্গি। কিন্তু তৃতীয় জঙ্গি কোথায়, ওই দলে আরও কোনও জঙ্গি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চিরুনিতল্লাশি শুরু হয়। বেশ কিছু দূরে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে তৃতীয় জঙ্গির দেহ দেখতে পায় সেনা। কিন্তু তার দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি।গত বুধবার থেকে অনন্তনাগে শুরু হয়েছে গুলির লড়াই। সেনা এবং জঙ্গিদের এই সংঘর্ষে দুই সেনাকর্তা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক ডিএসপির মৃত্যু হয়। নিখোঁজ এক জওয়ান। সেই সংঘর্ষ এখনও থামেনি। জঙ্গিদের বাগে আনতে লড়াই চালাচ্ছে সেনা।
